West Bengal assembly polls: here is how the political parties fare till fourth phase | Sangbad Pratidin

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: হাতে মাত্র আর একদিন। তার পরেই ভোট চতুর্থী। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার-সহ দক্ষিণের হাওড়া, হুগলি ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মোট ৪৪ আসনে হবে ভোটগ্রহণ। উনিশের লোকসভা নির্বাচন চেনা হিসেব-নিকেশ অনেকটাই ওলোটপালট করে দিয়েছে। ফলে একুশের মহারণে নিজ-নিজ গড়ে কে এগিয়ে, সেটা যাচাই করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু প্রচারে সেয়ানে-সেয়ানে চলছে টক্কর। ধারে ও ভারে কেউ হয়তো সামান্য এগিয়ে তো কোথাও লড়াইটাই একপেশে। চতুর্থ দফার মহারণের আগে কোন আসনে কী পরিস্থিতি, রইল আগাম গ্রাউন্ড রিপোর্ট।

হুগলি
উত্তরপাড়া: এবার তৃণমূলের তারকা প্রার্থী কাঞ্চন মল্লিক প্রচারের ক্ষেত্রে তৃণমূলত্যাগী বিজেপি প্রার্থী প্রবীর ঘোষালের থেকে বেশ কিছুটা এগিয়ে। তবে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থাকলেও প্রবীরবাবুর বিজেপিতে যাওয়া মানতে পারেননি তাঁরই বহু অনুগামী। আর তাই অ্যাডভান্টেজ পাচ্ছে তৃণমূল।

শ্রীরামপুর: গত দুই বারের বিজয়ী তৃণমূল প্রার্থী ডাঃ সুদীপ্ত রায়ের প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপির কবীরশংকর বসু। তবু এই কেন্দ্রে ডাক্তারবাবুর ব্যবহারের জন্য তাঁর উপর গত নির্বাচনগুলিতে আস্থা রেখেছিলেন সাধারণ মানুষ, হিন্দি ভাষাভাষী ও শিক্ষিত সম্প্রদায়ের মানুষের একটা বিরাট অংশ। অন্যদিকে নবাগত কবীরশংকর বসু তেমনভাবে জনসংযোগ গড়ে তুলতে পারেননি। জে পি নাড্ডার সভা বাতিল করাকেও প্রচারে ইস্যু করেছে তৃণমূল।

চাঁপদানি: গতবারের বিজয়ী কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল মান্নানের সঙ্গে এবার লড়াই তৃণমূলের অরিন্দম গুঁই ও বিজেপির দিলীপ সিংয়ের। এলাকার বহু মানুষের ক্ষোভ, গত পাঁচ বছরে কংগ্রেসি বিধায়ককে পাশে পাননি তাঁরা। তাই এখানে কংগ্রেসি ভোট ভাগাভাগি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই লড়াইটা বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে, ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। 

চন্দননগর: দু’বারের বিজয়ী তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেনের প্রতিপক্ষ দীপাঞ্জন গুহ নিঃসন্দেহে এবার একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। নির্বাচন ঘোষণার বহু আগে থেকেই মাটি কামড়ে পড়ে আছেন বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন। এখানে সিপিএম প্রার্থী গৌতম সরকার পেশায় শিক্ষক। তাঁর জনপ্রিয়তাও নেহাত কম নয়।ফলে লড়াইটা হবে ত্রিমুখী। কঠিন লড়াইয়ে কেউ কাউকে জমি ছাড়বেন না।

চুঁচুড়া: গত দু’বারের বিজয়ী তৃণমূল প্রার্থী অসিত মজুমদার ও বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের দিকে নজর সকলের। একদিকে, বিজেপির সম্মানরক্ষার লড়াই, অন্যদিকে তৃণমূলের আসন ধরে রাখার লড়াই। গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল এই কেন্দ্র থেকে লিড পেয়েছিল। তবে এই কেন্দ্রে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের লাভ তৃণমূল তুলতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন। ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী চিকিৎসক প্রণব ঘোষ অত্যন্ত পরিচিত নাম। তিনি কখনও কোনও রোগীকে ফেরান না। কিন্তু ভোটের ক্ষেত্রে সেই বিষয়টা কি কাজ করবে? তার উপর বাকি দুই প্রার্থীর ভাগ্য অনেকটা নির্ভর করছে।

সপ্তগ্রাম: গত দু’বারের বিজয়ী মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূলের হয়ে লড়াই করছেন। তাঁরই প্রতিপক্ষ সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়া দেবব্রত বিশ্বাস। গত লোকসভা নির্বাচনে সপ্তগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি ২৫ হাজারের বেশি ভোটে লিড পেয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল ছেড়ে দেবব্রত বিশ্বাস বিজেপি প্রার্থী হওয়ার পরই দলের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে। ফলে লোকসভার ফল গেরুয়া শিবির ধরে রাখতে পারে কি না, সেটাই দেখার।

পাণ্ডুয়া: গত দু’বারের বিজয়ী সংযুক্ত মোর্চার সিপিএম প্রার্থী আমজাদ হোসেনের লড়াই তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ রত্না দে নাগের। তবে পাণ্ডুয়ার সাধারণ মানুষের রত্না দে নাগের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা থাকলেও তাঁরা স্বীকার করেন যে আমজাদকে কাছে পেয়েছেন। দু’জনকে তেমন কোনও লড়াই দিতে পারবেন না বিজেপির প্রার্থী অধ্যাপক পার্থ শর্মা।

বলাগড়: গতবারের বিজয়ী তৃণমূল প্রার্থী অসীম মাজির পরিবর্তে এবার মনোরঞ্জন ব্যাপারীকে প্রার্থী করেছে শাসকদল। নিম্নবর্গীয় সমাজের কথা বারবার উঠে এসেছে তাঁর কলমে। গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রায় ৩৪ হাজার ভোটে হেরেছিল বিজেপির কাছে। এখানে বিজেপির প্রার্থী সুভাষচন্দ্র হালদার এবং সিপিএম প্রার্থী মহামায়া হালদার। লোকসভার ক্ষতি সামাল দিয়ে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তৃণমূলে, সেটাই এখন দেখার।

[আরও পড়ুন : ‘তৃণমূলের বিরোধিতা করলে উৎখাত করব’, ভোটের প্রচারে ‘হুমকি’ দিয়ে বিতর্কে গৌতম দেব]

হাওড়া

উলুবেড়িয়া পূর্ব: এই আসনটি তৃণমূলের দখলে রয়েছে।বিধায়ক ছিলেন ইদ্রিস আলি। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ইদ্রিস আলিকে মুর্শিদাবাদে সরিয়ে দিয়েছে। এই কেন্দ্রে তারা প্রার্থী করেছে ফুটবলার বিদেশ বসুকে। উলটোদিকে উলুবেড়িয়া পুরসভার তৃণমূলের বিদায়ী ভাইস চেয়ারম্যান আব্বাসউদ্দিন খান প্রার্থী হয়েছেন আইএসএফের তরফে। আবার বিজেপির প্রার্থী প্রত্যুষ মণ্ডল পরিচিত মুখ। এই এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটার প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলে ভোট কাটবে আইএসএফ। এই ভোট কাটাকাটির অঙ্কে সুবিধা পেতে পারে বিজেপি।

পাঁচলা: এবারের নির্বাচনে পাঁচলা বিধানসভা কেন্দ্রটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়ক তৃণমূলের গুলশন মল্লিক। লোকসভা নির্বাচনে হাওড়ার মধ্যে পাঁচলা কেন্দ্র তৃণমূলকে সবচেয়ে বেশি লিড দিয়েছে। এবারে গুলশান মল্লিকই তৃণমূলের প্রার্থী। তবে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই কেন্দ্রটিতে আইএসএফ প্রার্থী দিয়েছে। প্রার্থী হয়েছেন আবদুল জলিল। তিনি আবার সদ্য তৃণমূল থেকে আসা। তিনি ছিলেন পাঁচলা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট কাটাকাটি হতে পারে। এদিকে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে তৃণমূল থেকে আসা মহিত ঘাঁটিকে। তাঁকে ঘিরেও ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ফায়দা তুলতে পারেন তৃণমূল কর্মী। 

বালি:  বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন বৈশালী ডালমিয়া। তৃণমূল প্রার্থী করেছে চিকিৎসক রানা চট্টোপাধ্যায়কে। তবে কেন্দ্রটি এবার আরও আগ্রহের কারণ হয়ে উঠেছে সংযুক্ত মোর্চার সিপিএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধরের কারণে। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্রী ইতিমধ্যেই প্রচারে নজর কেড়েছেন। ফলে বালিতে লড়াই এবার ত্রিমুখী। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, তৃণমূল প্রার্থীকে ভোটে লড়াই দেবেন সিপিএম প্রার্থী।

হাওড়া উত্তর: একমাত্র এই কেন্দ্রেই গত লোকসভা নির্বাচনে এগিয়েছিল বিজেপি। এবার এখানে তাদের প্রার্থী উমেশ রাই। তিনি অনেকদিন ধরেই বিজেপির সাংগঠনিক নেতা। এই কেন্দ্রে অবাঙালি ভোটারের সংখ্যা বেশি। এই অংশের উপর প্রভাব ফেলবেন গেরুয়া প্রার্থী। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল এবার দাঁড় করিয়েছে এলাকার প্রভাবশালী নেতা তথা হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ গৌতম চৌধুরীকে। ভাল জনসংযোগ রয়েছে তাঁর।বামেদের প্রার্থী পবন সিংও রয়েছেন লড়াইয়ে। ফলে কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

হাওড়া মধ্য: রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়ের খাসতালুক বলে পরিচিত মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্র। এখানকার দশ বছরের বিধায়ক অরূপবাবু শক্তিশালী সংগঠনের জোরেই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির সঞ্জয় সিংকে হারাবেন বলে দাবি করেছেন। তবে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী আবার ভূমিপুত্র নন। এটা তাঁর বিরুদ্ধে যেতে পারে। তবে পোড়খাওয়া এই বিজেপি নেতা পাল্লা দিয়ে প্রচারও করছেন। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, লড়াই কঠিন। তবে ব্যবধান কমলেও রাজ্যের মন্ত্রীর পালেই হাওয়া বেশি।

শিবপুর: তৃণমূল এবার এই কেন্দ্রে প্রবীণ বিধায়ক জটু লাহিড়িকে টিকিট না দেওয়ায় তিনি বিজেপিতে চলে গিয়েছেন। এলাকার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাও টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে গিয়েছেন। কিন্তু এঁদের কাউকেই টিকিট দেয়নি বিজেপি। তৃণমূল থেকে আসা প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তীকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। ঘাষফুল শিবিরের বহু নেতা-কর্মী এখন বিজেপিতে। ফলে তৃণমূলের একটা সংগঠন এখন বিজেপির হয়ে কাজ করছে বলে দাবি। ফলে বিজেপিও লড়াই দেবে। অন্যদিকে প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারিকে প্রার্থী করে রীতিমতো চমক দিয়েছে তৃণমূল। সংযুক্ত মোর্চার তরফে এই আসনে লড়ছেন ফরওয়ার্ড ব্লকের জগন্নাথ ভট্টাচার্য।

হাওড়া দক্ষিণ: বয়সের কারণে তৃণমূল এবার বিদায়ী বিধায়ক ব্রজমোহন মজুমদারকে প্রার্থী করেনি। তার বদলে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অম্বিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়ে নন্দিতা চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে। এলাকায় তাঁর পরিচিতি ভাল। তাঁর পিতৃপরিচয়ও ইতিবাচক ফ্যাক্টর হতে পারে। এদিকে গত লোকসভা নির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী রন্তিদেব সেনগুপ্তকে এবার দক্ষিণ হাওড়ায় প্রার্থী করেছে বিজেপি। তবে জনসংযোগ তেমন নয়। বামেরাও গত লোকসভা নির্বাচনে তাঁদের প্রার্থী সুমিত্র অধিকারীকে এবার এখানে ভোটযুদ্ধে নামিয়েছে। তাঁরও ভাল জনসংযোগ রয়েছে। ফলে তৃণমূল বনাম বাম প্রার্থীর জোর টক্কর এই কেন্দ্রে।

ডোমজুড়: এবার বিধানসভায় ডোমজুড় কেন্দ্রের উপর বিশেষ নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। এই কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এবার এই কেন্দ্রে তাঁর প্রতিপক্ষ তৃণমূলের প্রার্থী কল্যাণ ঘোষ। মূল লড়াই এই দু’জনেরই। তবে সংযুক্ত মোর্চার তরফেও এবার এখানে প্রার্থী করা হয়েছে উত্তম বেরাকে। বাম জমানায় পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন প্রার্থী। দু’জনই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে মরিয়া। অন্যদিকে এই কেন্দ্রের বাঁকড়া এলাকায় সংখ্যালঘুর আধিক্য। এই এলাকায় বিজেপির জনপ্রিয়তা নেই তেমন। ফলে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে জিততে হলে কঠিন লড়াই করতে হবে।

সাঁকরাইল: এই কেন্দ্রেও তৃণমূলের থেকে টিকিট না পেয়ে বিজেপিতে চলে যান বিধায়ক শীতল সরদার। কঠিন লড়াইয়ের মধ্যেই তৃণমূল এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে প্রিয়া পালকে। এই এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা গগনচুম্বী। তবে বিজেপি তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ককে প্রার্থী করেনি। তাঁরা এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে প্রভাকর পণ্ডিতকে। সম্প্রতি আমফানের সময় নিজের এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন তিনি। এখানে সংযুক্ত মোর্চার তরফে বাম প্রার্থী সমীর মালিক। তাঁর তেমন একটা প্রভাব নেই এলাকায়। ফলে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের পালে হাওয়া রয়েছে।

[আরও পড়ুন : ক্ষমতায় এলে বাংলাতেও হবে ‘অ্যান্টি রোমিও স্কোয়াড’, হুঁশিয়ারি আদিত্যনাথের]

কোচবিহার
মেখলিগঞ্জ: তৃণমূলের প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারী ভাল সাংগাঠনিক নেতা হিসেবে পরিচিত। এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন বেশ মজবুত। উপরন্তু হলদিবাড়ি-মেখলিগঞ্জের মধ্যে তৈরি হওয়া জয়ী সেতুকে উন্নয়নের কার্ড হিসেবে ব্যবহার করছে তৃণমূল। ফলে লড়াইয়ে বাকি দুই দলের প্রার্থীদের থেকে কিছুটা হলেও এগিয়ে রাজ্যের শাসকদল।

মাথাভাঙা: পরপর দু’বার এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন তৃণমূলের বিনয়কৃষ্ণ বর্মন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। ফলে তাঁর বদলে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে গিরীন্দ্রনাথ অধিকারীকে। এলাকায় জনপ্রিয়। তবে লোকসভা ভোটের নিরিখে অনেকটা এগিয়েছিল বিজেপি। সংগঠনও ভাল। তবে এলাকায় নতুন প্রার্থী এনে তৃণমূল সেই খামতিকে ঢাকতে পারে কিনা সেটা ২ মে বোঝা যাবে।

কোচবিহার উত্তর: এই কেন্দ্রে বিদায়ী বিধায়ক নগেন্দ্রনাথ রায় ফরোয়ার্ড ব্লকের। তবে উনিশের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ধরাশায়ী হয়েছিল তৃণমূল। অনেকটা এগিয়েছিল বিজেপি। তবে ফরোয়ার্ড ব্লকের ঝুলিতে ভোট পড়লে, লোকসভার ফলাফল ধরে রাখা বিজেপির পক্ষে কঠিন হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কোচবিহার দক্ষিণ: এই কেন্দ্রের অনেকটাই শহরকেন্দ্রিক। আর শহর এলাকার পরিষেবা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে মানুষের। তার প্রভাব পড়েছিল লোকসভা নির্বাচনেও।আবার কিছুটা এলাকায় সংখ্যালঘু জনসংখ্যা বেশি। সেখানে ভোট টানবে তৃণমূল। তবে পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ থাকায় কিছুটা ব্যাকফুটে তৃণমূল।

শীতলকুচি: এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন মজবুত। লোকসভা নির্বাচনে অল্প ব্যবধান হলেও লিড পেয়েছিল তৃণমূল। এবার ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী দলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়। প্রচারে ঝড় তুলেছেন তিনি। পার্থপ্রতিম রায় বিজেপি-সহ বিরোধী শিবিরকে চাপে রাখতে পারেন কিনা তা ২ মে বোঝা যাবে।

সিতাই: উনিশের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রায় ৩৬ হাজার ভোটে লিড পেয়েছিল তৃণমূল। ঘাসফুল শিবিরের গড় হিসেবেই পরিচিত এই বিধানসভা কেন্দ্র। আমজনতার দাবি মেনে তৃণমূল সরকার সেতু বানিয়েছে। উন্নয়নই তাদের হাতিয়ার। সংগঠনও মজবুত। ফলে এই কেন্দ্রে জয় পাওয়া বিজেপির ক্ষেত্রে বেশ কঠিন বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

দিনহাটা: এই কেন্দ্রে বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক বনাম উদয়ন গুহর টক্কর। প্রথম দিকে প্রচারের নিরিখে এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু এক বিজেপি কর্মীর আত্মহত্যাকে রাজনৈতিক খুন বলে অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি প্রার্থী। এর প্রতিবাদে শহর এলাকায় কার্যত ‘তাণ্ডব’ চালিয়েছিল বিজেপি কর্মীরা। কিন্তু কমিশন জানিয়ে দেয়, এটা রাজনৈতিক হিংসা নয়, আত্মহত্যা। এর পরই আমজনতা বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। সেই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে চাইছে তৃণমূল। দু’পক্ষের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

নাটাবাড়ি: বিজেপি প্রার্থী মিহির গোস্বামী। তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। কিছুটা হলেও এই কেন্দ্রে জনপ্রিয়তা খুইয়েছেন তিনি। আবার লোকসভা নির্বাচনে বিরাট ব্যবধানে জয় পেয়েছিল গেরুয়া শিবির। তাদের সংগঠনও ভাল। তবে করোনা পরিস্থিতির সময় এলাকায় প্রচুর কাজ করেছেন তৃণমূল প্রার্থী। আর তাই হারানো জমি কিছুটা হলেও ফিরে পেয়েছে তৃণমূল। ফলে লড়াই মোটেও একপেশে নয়।

তুফানগঞ্জ: এই কেন্দ্র গেরুয়া ঘাঁটি। বিজেপির সংগঠন মজবুত। উপরন্তু তৃণমূলের্ প্রার্থী প্রণবকুমার দে বহিরাগত প্রার্থী। সেই কার্ডকেই ঘাসফুলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে বিজেপি।

আলিপুরদুয়ার

কুমারগ্রাম: লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়েছিল বিজেপি। সেই নিরিখে গেরুয়া শিবিরের পালে হাওয়া। তবে অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত দু’দলই। তৃণমূলের প্রার্থী লেওসা কুজুর প্রাক্তন বিজেপি নেতা। সদ্য দলবদল করে তিনি টিকিট পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। আবার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ দশরথ তিরকে এই এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। যার জেরে গেরুয়া শিবিরের অভ্যন্তরেই কোন্দল রয়েছে। সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিজেপির পালে হাওয়া থাকলেও কড়া টক্কর দেবে তৃণমূলও।

কালচিনি: লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রেও এগিয়ে ছিল বিজেপি। কিন্তু একুশে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে। এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা মোহন শর্মা সদ্য দলবদল করেছেন। ফলে ভোটের আগে বাড়তি অক্সিজেন পাচ্ছে তারা। কিন্তু প্রার্থী বিশাল লামাকে নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে দলের অন্দরেই। অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী পসং লামার জনপ্রিয়তা রয়েছে। ফলে কেউ কাউকে সহজে জমি ছাড়বে না বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

আলিপুরদুয়ার: উনিশে এই কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল বিজেপি। তবে এবার লড়াই ত্রিমুখী। সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী দেবপ্রসাদ রায় বড় ফ্যাক্টর হবে। হাওয়া গেরুয়া শিবিরের পালে থাকলেও প্রার্থীর জয় সহজ হবে না। এই কেন্দ্রেও প্রার্থীকে নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। রয়েছে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। উপরন্তু নির্দল প্রার্থী হয়েছেন রাজবংশী যুবক অসীম রায়। তিনি রাজবংশী ভোটে থাবা বসাতে পারেন। এই ভোট কাটাকাটির অঙ্কে কে শেষ হাসি হাসবে তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে।

ফালাকাটা: লোকসভা ভোটের নিরিখে শুধু নয় প্রচারের দিক থেকেও অ্যাডভান্টেজ পাচ্ছে গেরুয়া শিবির। এই কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক ছিলেন অনিল অধিকারী। তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতি টের পাচ্ছে তৃণমূল। তবে বর্তমান প্রার্থী সুভাষ রায় প্রভাব ফেলতে পারেন। জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিজেপির জয়ের পথে কাঁটা বিছোতে পারেন তিনি।

মাদারিহাট: দীর্ঘদিনের বিধায়ক মনোজ টিগ্গা এবারের প্রার্থী। ফলে এলাকার বাসিন্দারা ভাবছেন, এবার রাজ্যে পালাবদল হলে মন্ত্রিত্ব পাবেন তিনি। আবার উলটো ভাবনাও রয়েছে, বিরোধী বিধায়ক হলে এলাকার উন্নয়নে ভাঁটা পড়বে। তাছাড়া ক্ষোভও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এদিকে তৃণমূল প্রার্থী রাজেশ লাকড়া আবার বহিরাগত। যিনি কঠিন লড়াই দিতে পারেন বিজেপিকে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা

সোনারপুর দক্ষিণ: প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক জীবন মুখোপাধ্যায় অত্যন্ত সৎ মানুষ। কিন্তু গত ১০ বছরে এলাকার কোনও উন্নয়ন করেননি বলে অভিযোগ। ফলে আমজনতার ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে দলেও। ফলে এই পরিস্থিতির সুযোগ পেতে পারে বিজেপি। এবার এই কেন্দ্রে দুই তারকার লড়াই-তৃণমূলের লাভলি মৈত্র বনাম বিজেপির অঞ্জনা বসুর। প্রচারে ঝড় তুলেছেন অঞ্জনা। ধারেভারে একটু পিছিয়ে তৃণমূল প্রার্থী। তবে ফল কী হয়, তা জানতে ২ মে-র দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

ভাঙড়: একুশের নির্বাচনের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভাঙড়। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন আইএসএফের নওসাদ সিদ্দিকি। এই এলাকায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রয়েছে। রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষোভ রয়েছে। আবার এই এলাকার মানুষের উপর ফুরফুরা শরিফের প্রভাব রয়েছে। ফলে তৃণমূল ও সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীর মধ্যে কড়া টক্কর হবে।

কসবা: দ্বিমুখী লড়াই তৃণমূলের জাভেদ আহমেদ খান বনাম বিজেপির ইন্দ্রনীল খাঁর। প্রচারে ঝড় তুললেও সিপিএম প্রার্থী শতরূপ ঘোষ তেমন প্রভাব ফেলতে পারবেন না বলেই দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকায় ধর্মীয় বিভাজনের অভিযোগ রয়েছে গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে। ঘাসফুল শিবিরেও অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে এই কেন্দ্রে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

যাদবপুর: এই কেন্দ্রে বাম-তৃণমূলের কড়া টক্কর। তবে বিজেপি প্রার্থী রিঙ্কু নস্কর কতটা ভোট কাটছেন তার উপর তৃণমূলের মলয় মজুমদার বনাম বামেদের সুজন চক্রবর্তীর ভাগ্য নির্ভর করছে। এই এলাকার ৭০ শতাংশ কলোনি ভোটার। এই ভোটের উপরও প্রার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল, তৃণমূল প্রা্র্থী কলোনি আন্দোলনের নেতা ছিলেন। এর আগে ১৯৬৭ সালে শেষবার এলাকার কোনও নেতা বিধায়ক হয়েছিলেন। এবার মলয় মজুমদার ভূমিপুত্র। ফলে সেই ফ্যাক্টর ভোটে কাজে লাগাতে পারেন তিনি।

সোনারপুর উত্তর: তৃণমূল প্রার্থী ফিরদৌসি বেগমের ঘনিষ্ঠ দলীয় নেতা রঞ্জন বৈদ্য এখন বিজেপিতে। ফিরদৌসির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। তবে তৃণমূল প্রার্থী এলাকায় উন্নয়ন করেছেন। জনসংযোগও ভাল তাঁর। ফলে তাঁর পালে হাওয়া রয়েছে বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

টালিগঞ্জ: এই দফার আরেক হাই ভোল্টেজ কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বনাম রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের লড়াই এই কেন্দ্রে। তবে বিজেপি প্রার্থী বাবুলের কড়া নিরাপত্তা থাকায় তাঁর কাছে আমজনতা পৌঁছতে পারছে না বলে অভিযোগ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ায় কার্যত তাঁকে বহিরাগত মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেদিক থেকে বেশকিছুটা এগিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

বেহালা পূর্ব: কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের ছেড়ে যাওয়া কেন্দ্র বেহালা পূর্বে তৃণমূলের প্রার্থী তাঁর স্ত্রী রত্না চটোপাধ্যায়। বিপরীতে রয়েছেন বিজেপির তারকা প্রার্থী পায়েল সরকার। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, শোভন এখানে প্রার্থী হলে, ভোটের অঙ্ক অন্যরকম হত। তবে এবার রত্না বনাম পায়েলের লড়াই বেশ জমজমাট হবে বলেই দাবি করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বেহালা পশ্চিম: এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন রাজনীতিতে নবাগতা তারকা শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। প্রচারে ঝড় তুলেছিলেন বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু রাজ্যের উন্নয়ন হাতিয়ার পার্থর। ফলে এই লড়াইয়ে কে জেতে, সেটাই এখন দেখার।

মহেশতলা: এই এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন শক্তিশালী। পাশাপাশি দুলালচন্দ্র দাসের ব্যক্তিগত ক্যারিশমাও মারাত্মক। সংগঠন নেই বিজেপিরও। ফলে কার্যত একপেশে লড়াই এই কেন্দ্রে।

বজবজ: দক্ষিণ ২৪ পরগনা তৃণমূলের ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। একদিকে সংগঠন, অপরদিকে উন্নয়ন। দুই কার্ডকে হাতিয়ার করে বিরোধীদের কঠিন লড়াই দিচ্ছে তৃণমূল। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এই কেন্দ্রেও বাকিদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে তৃণমূলের অশোক দেব।

মেটিয়াবুরুজ: সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। তৃণমূলের এবং আইএসএফ প্রার্থীর মধ্যে ভোট কাটাকাটির সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপির সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে লড়াই হবে তিনজনের মধ্যে। ভোট কাটাকাটির অঙ্কের উপর নির্ভর করছে জয়ীর ব্যবধান কত হবে। গ্রাউন্ড রিপোর্ট বলছে, গত কয়েক বারের মতো এবারেও এই কেন্দ্রে তৃণমূলের পাল্লা ভারী।

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *